Logo
Logo
×

সারাদেশ

একই মুখে বারবার প্রশিক্ষণ

ক্লাস ফাঁকি দিয়ে শিক্ষকদের যোগদানের হিড়িক, আইনি প্রশ্ন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ২১:৫১

ক্লাস ফাঁকি দিয়ে শিক্ষকদের যোগদানের হিড়িক, আইনি প্রশ্ন

চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ফ্যাক্ট-চেকিং কর্মশালায় একই ব্যক্তিদের বারবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে সিন্ডিকেট গড়ে তোলার যে অভিযোগ উঠেছিল, তা এবার আরও গুরুতর রূপ নিয়েছে। প্রশিক্ষণের নামে স্থানীয় বেশ কয়েকজন শিক্ষক তাদের মূল দায়িত্ব তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এবং কোনো প্রকার ছুটি না নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই তিন দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে একই সময়ে কর্মশালা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—উভয় স্থানের হাজিরা খাতায় উপস্থিতির স্বাক্ষর রাখার মতো নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনাও সামনে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার সৃজনী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও একটি গণমাধ্যমের জেলা প্রতিনিধি আহাদ আলী মোল্লা বুধবার ও বৃহস্পতিবার কর্মশালায় উপস্থিত থাকলেও নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ছুটি নেননি। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সভাপতি আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনুর আক্তার বলেন, ‘ সৃজনী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোনো ছুুটি নেননি।’

 অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা শহরের আলিয়া মাদ্রাসার চারজন শিক্ষক—ইসলাম রাকিব, আতিয়ার রহমান, জামান আক্তার ও আবুল হোসেন কোনো ছুটি ছাড়াই এই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। বিস্ময়কর বিষয় হলো, তারা প্রশিক্ষণের হাজিরা খাতায় যেমন স্বাক্ষর করেছেন, ঠিক তেমনি একই সময়ে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হাজিরা খাতায়ও উপস্থিতির স্বাক্ষর দেখিয়েছেন। কোনো আইনি বা অলৌকিক ক্ষমতাবলে একই ব্যক্তি একই সময়ে দুটি পৃথক স্থানে উপস্থিত থেকে জালিয়াতি করলেন, তা নিয়ে শিক্ষা প্রশাসন ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জান্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ওই চার শিক্ষকের কেউই ছুটি নেননি এবং মাদ্রাসার হাজিরা খাতায় তাদের স্বাক্ষর রয়েছে।

অনুরূপভাবে, জীবননগর সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার এফ এ আলমগীরও বুধ ও বৃহস্পতিবার এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন। বুধবার হিজরি নববর্ষের ছুটি থাকলেও, বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা খোলা থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো ছুটি না নিয়ে কর্মশালায় যোগ দেন এবং চাতুরতার আশ্রয় নিয়ে নিজের মাদ্রাসার হাজিরা খাতায়ও স্বাক্ষর বজায় রাখেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি বেতন-ভাতা বা এমপিওভুক্ত পদে থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন বা ছুটি ছাড়া অন্য কোনো কর্মশালায় অংশ নেওয়া এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা সরকারি চাকরি বিধিমালা ও পেনাল কোড (দণ্ডবিধি) অনুযায়ী সরাসরি 'প্রতারণা', 'হাজিরা জালিয়াতি' এবং 'আর্থিক অসদাচরণ'-এর শামিল। একই সাথে, প্রকৃত সাংবাদিকদের বঞ্চিত করে নামধারী ও অ-সাংবাদিকদের এই প্রশিক্ষণে সুযোগ করে দেওয়া এবং সরকারি অর্থের অপচয় করার পেছনে আয়োজকদের 'স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা' নিয়েও এখন বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গায় প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকা পিআইবির অস্থায়ী প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাঈদ শাহিন পরিচয় জানার পর মুঠোফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তিনি মুঠো ফোন রিসিভ করেননি।

Logo

অনুসরণ করুন